ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকেই দেশে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ চলছে। সে ধারা অব্যাহত রয়েছে নভেম্বরেও। চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা মাস শেষে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের ইতিহাসে এর আগে একবারই বৈদেশিক আয়ের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। প্রবাসীদের পাঠানো এ রেমিট্যান্সের ওপর ভিত্তি করে রিজার্ভেও বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাজার থেকে ডলার ক্রয় অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এক বছরের হিসাবে দেশের ইতিহাসে প্রবাসীরা এত রেমিট্যান্স এর আগে কখনো পাঠাননি।
চলতি অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ের উচ্চ প্রবাহ চলছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশে ১০ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। আর নভেম্বরে প্রথম ১৯ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার। চলতি মাসের এখনো ১১ দিন বাকি। রেমিট্যান্সের এ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মাস শেষে তা ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাধারণত দেশে বড় ধরনের ধর্মীয় বা সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয়ের উচ্চ প্রবাহ দেখা যায়। চলতি বছরের মার্চজুড়েই ছিল রমজান আর মাসের শেষ দিন ছিল ঈদুল ফিতর। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে তখন প্রবাসীরা দেশে রেকর্ড ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। একক মাস হিসেবে এত রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি। তবে চলতি নভেম্বরে দেশে বড় কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক উৎসব নেই। তাই এ মাসে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলে দেশের অর্থনীতিতে তা ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।
গত অর্থবছরের আগে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। কভিড মহামারীর ওই সময়ে প্রবাসীরা ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সেই প্রবাহ কিছুটা বেড়ে ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জুনে দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী দুই বছরে কখনই এ চিত্র দেখা যায়নি। চলতি নভেম্বরের ১৬ তারিখের তথ্যানুযায়ী দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ১০ বিলিয়ন (বিপিএম-৬ হিসাবায়ন পদ্ধতিতে ২৬ দশমিক ৪০) ডলার।
বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়তে থাকায় ডলারের দরপতনের আশঙ্কা ছিল। তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে ডলারের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে তা কিনে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।